প্রধানমন্ত্রী হলে দলীয় পদ ছাড়ার প্রস্তাব
সংবিধানে দেশের সব জাতিসত্তার স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন অংশীজন। তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর পদে দায়িত্ব গ্রহণের পর দলীয় দায়িত্ব ছাড়তে হবে– এমন বিধান সংবিধানে যুক্ত করতে হবে। নির্বাচনে ৫১ শতাংশের কম ভোট পড়লে পুনরায় ভোটের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাবও এসেছে।
বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সঙ্গে সপ্তম দিনের মতবিনিময় সভায় অংশীজন এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। এদিন কমিশনের সদস্যরা সুশীল সমাজের তিনজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি এবং ৯টি সংগঠনের ১৬ জন প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।
সভায় বিচারপতি ইমান আলী, রাজা দেবাশীষ রায় ও অধ্যাপক রবিউল ইসলাম সংবিধান সংস্কার বিষয়ে নানা পরামর্শ দেন। এ ছাড়া ৯টি সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন– সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) রোমান উদ্দিন ও আপন জহির; নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) আখতার হোসেন খান, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা ও অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম; মায়ের ডাকের সানজিদা ইসলাম তুলি ও মুশফিকুর রহমান জোহান; দলিত নারী ফোরামের তামান্না সিং বারাইক ও পূজা রানী; নাগরিক উদ্যোগের নাদিরা পারভীন ও সুলতান সালাউদ্দিন সিদ্দিক; সম্পূর্ণার জয়া শিকদার ও সুদীপ কুমার দাস; জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মো. জুনাইদ ও মোহাম্মদ মিল্লাত হোসেন এবং সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের নাজমা আক্তার।
সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের সদস্য অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ চার বছর করার প্রস্তাব দিয়েছি। বলেছি, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি তাঁর দলের প্রধানের দায়িত্ব নিতে পারবেন না। সংবিধানে এ-সংক্রান্ত বিধান যুক্ত করতে হবে।’ সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার জানান, নারী-পুরুষের সমান অধিকার কার্যকর করার বিধান সংবিধানে যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। ভারসাম্যপূর্ণ সংসদ ও একজন টানা দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না– সেই বিধান রাখার প্রস্তাব করেছেন। জাতীয় ন্যূনতম মজুরি, দলিতসহ সবার কাজের সমান সুযোগ-সুবিধার বিষয় সংবিধানে রাখার কথা বলেছেন।
মায়ের ডাকের পক্ষ থেকে মৌলিক অধিকারের পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান আহ্বায়ক সানজিদা ইসলাম তুলি। তিনি বলেন, বিগত সময়ে মানুষের মৌলিক অধিকারই ছিল না। মৌলিক অধিকারের বিষয়টি যাতে সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে আনা হয়, এমন প্রস্তাব দিয়েছেন।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক, অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকরামুল হক, ব্যারিস্টার এম মঈন আলম ফিরোজী, ফিরোজ আহমেদ এবং মুসতাইন বিল্লাহ।
‘ভোটার তালিকা সংশোধনে সুপারিশ থাকবে’
জাতীয় নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সংশোধনে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে সুস্পষ্ট সুপারিশ করা হবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার। গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, দলিত, প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদে নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদ তুলে দেওয়ার বিধান আনার সুপারিশ করবে কমিশন।see more...

0 Comments